পদাবলিপ্রচ্ছদ

নিমাই জানার চারটি কবিতা

চক্রব্যূহ (অভেদ্য ঘূর্ণাবর্ত)

আধপোড়া ছাই অঙ্গার বিভুষিত দ্রব্যহীন রজশাস্ত্রের অতি লক্ষাধিক জলের পারমাণবিক সন্ন্যাসীর সাংখ্যমান বিবর্জিত দেহ তো দেবীর তৈরি , শঙ্খের বিচিত্র বীজ ছুঁয়ে ছুঁয়ে আছে এ রন্ধ্রময় গান্ধর্ব উপকূলের নৈশকালীন নিষিদ্ধ চান্দ্রবলয় অতি আর্দ্র ও রাষ্ট্র গন্ধের নীল পরিচ্ছদ দুলছে , ঠিক বৃহদারণ্যকের মতো ঘূর্ণায়মান , অক্ষৌহিনীরা স্থির ও হিম স্পাইরাল সাপের মতো ভয়ানক, টারজান ,তারজালির মুখোশ অন্তর্ভেদী দৃশ্য ও মহাপৌরুষেয় জ্ঞান অসংখ্য উদ্দীপক সৈন্যেরা দক্ষ ও লক্ষাধিক ঘিরে ধরে লাল পোকার উজবুক কামড়ের মতো, কামোদের মতো, কামোদ বাজাচ্ছে কেউ , ধ্বংসাত্মক যুদ্ধক্ষেত্রে মহাপুরুষটির জন্ম হচ্ছে না কোনমতেই , অথচ জন্ম নেই শঙ্কর বীজ ফেলছে তুলোর উনসন্নিধান উদ্বাস্তুর উপর , এ পরিসীমা দিগ্বিদিকে প্রসারিত হচ্ছে , অথচ স্থিতিস্থাপক কক্ষপথের অগ্নি সিংহ বলয় চৈতন্যের তৈরি , প্রখর রৌদ্রের মতো মহাকোষ কেন্দ্রে জ্বলছে উত্তপ্ত সূর্যের ছাই ও শুক্রাশয়ের গিঁট , কোন উপায় ও উপগ্রহের চাঁদ নেই। উপদেবী নেই , মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায় এই ধূসর পরমাত্মা ব্রাহ্মণ বাজাও বলি প্রদত্ত নির্ভীক সন্তানের গর্ভ গৃহে তিনি নির্জনে রচনা করছেন গোপনদ্বার কোন অবিশেষ্য গাণিতিক মহা কুন্ড নেই ঘূর্ণায়মান সুদর্শনের মতো তিনি দ্রবীভূত তেজ ছুঁড়ে দিচ্ছেন। রতি ও নশ্বর দেহের অপভ্রংশ উপাদান রম ও রমন দোষ অথচ দোষী যোনি বীজের নীলাভ পিণ্ডটি কাঁপছে বৈসাদৃশ্য শ্বেতাঙ্গ হরিণের চামড়ার মতো নাভি কেন্দ্রে কোন ছেদক নেই , উপবৃত্তের ধারালো দুটো অক্ষ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঋণাত্মক পুরুষের একান্ত বিশ্বস্ত প্রতিবিম্বটি , ক্রমশ ধবল হচ্ছে সারথীগন

 

 

মকর ব্যূহ (কুমির গঠন)

সাজিয়ে রাখো নাভি ও নাভির উপঢৌকন , সূক্ষ্ম ও তড়িদাহিত নাভি উত্তপ্ত নগর ও শ্মশানের চৌরাস্তা চারিদিকে দর্শন করছে দেবদাসীদের মারাত্মক বমি , দেবদাসীদের পায়ের থেকেও আরো স্পষ্ট স্পর্শ পেয়ে নির্বাসিত আজ অমরাবতী এনে ফেলেছে এ জাহান্নামের নশ্বর নরকের মাটির দেহাবশেষ , ঠিক প্রিয়দর্শিনীদের মতো উত্তপ্ত বায়ু প্রসারিত হচ্ছে নাসারন্ধ্র থেকে, অপ্সরারা সৈন্যদের ঘিরে ধরছে এই মকরধ্বজ আয়ুর চারপাশে , প্রত্যন্ত প্রহরনামার শহর তলিতে যুদ্ধের কোকশাস্ত্র পাঠ করছে নির্ভেজাল প্লাইউড কারখানার দেবী , ঋষি তো জীবাশ্মের মতো চটচটে বিধৃত , জীবাশ্ম শীতল লেজের মতো পাহারা দিচ্ছে অথচ এখান থেকে বেরানোর উপায় ও মন্ত্র জানা নেই কারোরই , প্রাণীদের নিজস্ব দুঃখ থাকতে নেই , মিলেনিয়াম স্ট্রবেরি গ্লু যোগারূঢ় বাদাম গাছ ক্রমশ টলমল করছে। ক্রিয়াযোগ নেই অথচ যুদ্ধাস্ত্র আছে যুদ্ধক্ষেত্র আছে গোপন প্রদাহের বশিষ্ট ক্রমশ বলশালী হচ্ছে ইঙ্গিত রেখে যাচ্ছে প্রসারহীন দশম অক্ষৌহিনী সেনাদের প্রহারকালীন রাত্রির কালযোগ , নষ্ট হও আয়ুষ্মান দেব সতেজ অনিকেত আরামহীন পুরুষের স্ত্রী রোগ পুষে রাখে কেউ কেউ হলুদাভ কাম মাংস ছিঁড়ে নামে জলের গন্তব্য পুকুরে , ছিদ্র ছিদ্র ধূসর নীল কাশ্যপের অমরাবতীর গন্ধ শুঁকে শুকে প্রলয় কালীন গর্ভপাত দিচ্ছে নীল ব্লু হট কোন স্বৈরাচারী উপগ্রহকে ধারালো অস্ত্রের ধ্বনির সহিত শৃঙ্গার ঘন্টা উচ্চারিত হচ্ছে বারবার দ্রোহ ধর্মবীজ উত্তপ্ত হচ্ছে এই পূর্ণ গ্রহণ কালে ধমনীর জরাময় ব্রহ্মের নাম বিশ্লেষিত কোন নির্দিষ্ট উৎপাদক নেই ঋষিটির কাছে

 

 

 

ক্রৌঞ্চব্যূহ (পাখি গঠন)

সুড়ঙ্গের মতো দ্বিবীজপত্রী ভয়ানক তৎপুরুষ দোকান , পাখনার মতোই হিম সৈন্যরা প্রকারভেদ খুঁজছে, সন্ন্যাস বায়ুর মতো স্নায়ুর দ্বাপর , নির্বিশেষ স্থাপত্যের কালশিটে দাগে হিম তঞ্চনের অভব্য ময়ূরাক্ষী দ্রোনপত্র বাজাচ্ছে কেউ কেউ , ধর্মান্তরিত ঈশ্বরীর হ্রিং দেহ খুঁজছে অভিশাপগ্রস্থ হয়ে, প্রত্যন্ত আগুন পাখির মোমের মতো দাহ্য তীব্র শ্বাস কাঠ দুলছে শ্বেত রক্ত কণিকার বর্ম পরে , বায়ুতে বায়ুতে সমিদ্ধের মতো উদ্ভিজ্জ আগুন , ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে হেসে ফেলছে ক্রমশ স্তন ভারী করার হৈমন্তী কাষ্ঠল পদার্থ। কৌটো ফেলে প্রলয় শিখার উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ডানাটি ক্রমশ কর্দমাক্ত হচ্ছে।হে শৈলনগর দেহী ধর্মগ্রন্থ ছেড়ে দাও এই ভয়ানক দরজার প্রহর কেন্দ্রে এসে , ফিনিক্স বৈজয়ন্তী কিরীটি ধূসর যুগ প্রলয় ও পতিত পর্বত কথা নেই এখানে , নির্ভেজাল তৃতীয় পুরুষ লিঙ্গের মতো সনাতন বিজ্ঞান দৃশ্য পারলৌকিক গমনকালে অতন্দ্র প্রহরের মতো পাখিটি নিস্তব্ধ আগুন নিয়ে বসে পড়ে নিজের পদ্মাসনে , পাকস্থলীর উপর সঙ্গমে সঙ্গমে নিভে যাবে এই পারলৌকিক গমন কালের অতীন্দ্রিয়তা , সঙ্গমেই লিপ্ত হব হ্রদ ও বধ্যভূমিতে, খুব সতর্কতায় নিহত হচ্ছে কেউ কেউ, রেতের অসুখ বড় প্রাকার বিহীন সৈন্যেরা নির্লজ্জ অথচ বেদ মালায় প্রশিক্ষিত , হে পিঙ্গলা রেতের অসুখেও উর্বশেয় উপশম খোঁজ ধূসর চামড়ার বীজ ও ঋণাত্মক ক্রীড়া যোগে , নীল রাত্রের উপশম আসলে অঙ্কুরিত দ্রব্য মাত্র। নৈশকালীন বিজয় রাশির ঠোঁট দিয়ে চিরে চিরে আবহবিকার আবিষ্কার করছে যৌতুক পক্ষী ষড়ঙ্গ সমগ্র মধ্যরাতের রাজসিক শৃঙ্গারের মতো অতি বাস্তব প্রকারভেদ কিলবিল করছে। নিশানা বিহীন ধারালো গুণাঙ্ক হস্তচালিত গুহায় উপনিষদের পাক দিচ্ছে লোহিত কর্কটকে, নীল নীল বুদ্ধ মৃতদেহের সৌখিন কোষে মহাপৌরষেয় হত্যার শীলভদ্রেরা ক্রমাগত ব্যাজন দোলাচ্ছে , নিহত তরোয়ালের কোকশাস্ত্র নেই ,

 

 

 

পদ্ম ব্যূহ (পদ্ম গঠন)

ভয়ানক কারক যোগ , ভ্যো ও গ্রহকাল , দেহের কোষের ভেতর মদন রমনের কোষ , ভ্যো ভ্যো ভ্যো অন্দরমহলে স্বর্গীয় রসায়ন শাস্ত্র বাজছে , শ্লোক নেই , স্তোত্র নেই , শব্দ নেই , সরস শীৎকার নেই বজ্র ধ্বনির মতো উচ্চ লম্ফন নেই , শরীরে শরীরে বজ্র নিরোধকের মতো মূলাধার চক্র ঘুরছে, ষোড়শ জ্যোতির্লিঙ্গের মতো ফেনলের মতো রাজতান্ত্রিক রাজহাঁসের মতো হিমাচলের দৈবাৎ পাথরের মতো অপশরীরের উপদেবী গলগন্ড বরাবর রাজযোগ নামবে, নীলকন্ঠ উপদেবীর মতো তীব্র অথচ ক্ষত্রিয় নিষ্ক্রিয় শরীর পদ্মযোনীর পাঁপড়ির মতো বিস্ফারিত হয়ে আছে সর্পজ অসুখ নিয়ে সুগন্ধের কারক থেকে দ্রিমি দ্রিমি ঘন্টার ধ্বনি বাজছে , এখানেও নাকাড়া তীব্র যুদ্ধের ভৈরি বাজছে , এতো নিশ্ছিদ্র রতিশাস্ত্রের মতো শ্রেষ্ঠ মানব ভ্রুণ জাগবে , কোমল শাস্ত্র ফেলে দাও পদাতিক যোগীদের মাঝখানে , চিরহরিৎ কামযোগ পাখির মৃতদেহ পুড়ছে দ্রব্যাদি বিহীন হিম চর্বির দেশে। হে শূন্য বিবেক ময়ূর আদিত্যের মোহ আমাদের তীব্র শরীরের সৎকার ক্ষর অক্ষর দেহগুলো খুলে দাও তৈজসপত্র জ্বালাও ধ্বংস করো নাসিক্যের অধিগত খনিজ পদার্থ , জলের ভৌম ধমনীর হিম শীতল তাপ জন্মদেশের গন্ধময় সমরেশ পদার্থ দিয়ে ধুমায়িত চুল্লি জ্বলছে কেউ কেউ নগ্ন দেশের মতো উত্তপ্ত মুদ্রা অপলোহিত দানায় নিশ্চিহ্ন করছে মহা দুঃখের রথ , হে তীব্র অহংকার হত্যা করো জরার অপনৈশচারিণীদের ক্ষুধা জেগে উঠবে ক্রমশ পীড়াময় স্বয়ংসিদ্ধার ক্ষেত্রে , জন্মাবধি জীবাশ্ম ক্ষেত্রের জিহ্বা লকলক করেছে। এ বর্ষীয়ান অদ্ভুত লোকপাল সেনারা অতীন্দ্রিয় দৃশ্যের ত্রিনেত্র উৎপাতে বসে আছে নিহত সাদৃশ্যের যৌন প্রতিকৃতি আঁকবে বলে , ক্রমশ পিঙ্গলা গলে যাচ্ছে বরফ পাথরের মতো জন্মাবধি সদ্যোজাতের মতো

 

আরও পড়ুন- তুষার ভট্টাচার্যের কবিতা

You cannot copy content of this page