সুকুমার হালদারের একগুচ্ছ কবিতা
অন্তহীন নিঃসঙ্গতার আলো
নিঃসঙ্গতা!
মানুষ কখনো কখনো কেবলই এই চায়
যেমন তুমি চেয়েছিলে
তোমার নিঃসঙ্গতায় কেবল রোদ্দুর থাকবে
টুকরো টুকরো বাতাসগুলোকে
টেনে হিঁচড়ে বের করে দেবে
নিঃসঙ্গ ত্বকের ওপর দুপুর আলোর চলমানতা
অন্তহীন নিঃসঙ্গতার আলোয় আমি ভালোবাসা পাতব
আমার প্রহর প্রান্তগুলো ঝরে ঝরে পড়ে!
তোমার তীর অসীমের দিকে তাক করা
আমার তীর একঘেয়ে দৈর্ঘ্যের দিকে
কোলাহলের অন্ধকার কেন্দ্র থেকে
সরতে পারলাম কই!
অথচ বেশিরভাগ মানুষ বিপরীত মেরুর সঙ্গে বাঁচে!
পাসওয়ার্ড
ঠিক আয়নার মতো নয়
ইতিহাস ভরা একটা পোর্ট্রেট
নিঃশব্দে বেরিয়ে আসছে
ভিজে জবজবে অন্ধকার
বয়স বাড়ছে বন্ধু কমছে
সময় পাল্টে পাল্টে তোমায় দেখছি
মুখোশের আয়নায় মুখ দেখা
শুধু শূন্য শূন্য কুয়াশা ভরা
মজে যাওয়া দুঃখের গায়ে
কবে অমলিন আনন্দ লেপ্টে যাবে
আমি ঘুমের মধ্যে অস্ফুটে কথা বলে যাচ্ছি
আমার হারিয়ে যাওয়ার পাসওয়ার্ড খুঁজে পাচ্ছি না
ঘরছাড়া
কোথায় গিয়েছিলাম,কবে ফিরেছি
এখন কোথায় আছি
কী খুঁজছিলাম নক্ষত্র
বসে আছি একটা অতীত ভরা ঘরে
জানলার বাতাস কেবল ধাক্কা মারছে
নগ্ন নিঃসঙ্গ মুমূর্ষু সময়কে
সবার মুখে একই কথা
যেদিন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেছি
তারপর থেকে আর ঘর বাঁধতে পারিনি
ব্যথা তরঙ্গিনী
তার চোখে আঁকা
অদ্ভুত রঙের এক বাড়ি,যে
বাড়িটার কল্পনার বর্ণচ্ছটা আমার চোখে
ভাবি মহাকালের ঘর
পাথর ভাঙা গান ভেসে বেড়ায়
মধ্যরাতে তরঙ্গিনী ব্যথা নামে
বৃষ্টি-বিদ্যুত কোলাহলে
বারবার কেঁপে কেঁপে উঠি
সেই দুটো চোখ আসে
দরজার পাশে মিটিমিটি হাসে
দুঃখ-সুখের নীরবতা ভুলে
তার আঁচলের মায়াবী ছায়ায় ঢেকে যাই
হে গরীব
খিদের পাশে লড়াই থাকে
হে গরীব একবার এসো
তোমাকে পাঠ করি সামনে বসিয়ে
লড়াইয়ে ময়দান ভরে ওঠে
ফাঁকাবুলির কুয়াশা বিপ্লব
ক্যালেন্ডার থেকে চুপিচুপি
নেমে আসে পুরনো খুনি নতুন অস্ত্রে
গুলিবিদ্ধ পড়ে থাকে ভরসার প্রতিশ্রুতি
খিদে লড়াই নিয়ে এগিয়ে চলে পৃথিবী
*সুকুমার হালদার, কলকাতা।
