শামীম নওরোজের কবিতাগুচ্ছ
রূপকথা মাত্র
ক্ষেতের আড়ালে কৃষিবউ ঘাস কাটায় ব্যস্ত।
কিছুলোক মেঘ কিনে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
জলমগ্ন জন্মগৃহে জুঁইশাদা ঘাসফুল।
বৃষ্টিভেজা গরুগুলো আগুন দেখে হাসছে।
গণিতের কোনো ধারাপাত নেই।
ছাত্রটি মুখস্থ করছে মিথ্যা কিছু ছড়া।
জীবনের নিম্নাংশে জলের খেরোখাতা।
মুগ্ধতার ভেতর দুর্বোধ্য সংসার।
কৃষিবউ ঘাসের ভেতর জুঁইশাদা ভাত খোঁজে।
কথিত সকল শব্দ রূপকথা মাত্র।
নদীবর্তী
ভদ্রা শানত হলে ঢেউ জাগে কুমারের জলে।
মাছের জীবন ফেরে নদীবর্তী মানুষের কূলে।
জল-যাপনে ফিরে আসে নৌকার কোলাহল।
মাছের আনন্দ দেখে ধীবর ঝাঁপ দেয় জলে।
ঝাঁপ দেয় লোক ও লোকালয়…
ধীরে ধীরে ফিরে আসে জলদাহ।
লোক নয়, লোককথা নদীর শিথানে ঘুমায়।
ত্রাস
ভাঙতে ভাঙতে ভেঙেই পড়লো
ঠেকাবার কোনো হাত নেই
ধুলো লিখিত রাস্তায় জীবন ধীর পায়ে হাঁটে
মুরগিখোর শিয়ালের সঙ্গে পেরে ওঠা কষ্ট
কলত্রাসে চিল খোঁজে মাছের ঠিকানা
ভয় পাওয়ার কিছু নেই
ধুলোত্রাসে উড়ে যাবে চিলের ইতিহাস
মধ্যরাতের মোজেজা
কুকুরের আর্তনাদে মধ্যরাত ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে।
কারো ঘুম ভাঙছে, কারো ভাঙছে না।
চাঁদের মোজেজা জোছনার আলো…
সূর্যের মোজেজা দিন…
টুকরো টুকরো আলো সূর্যের বন্ধু।
টুকরো টুকরো আঁধার চাঁদের বান্ধবী।
দিনের চেয়ে রাতের আকুলতা বেশি।
মধ্যরাতের রাস্তা ধরে মানুষেরা সেদিকেই যাচ্ছে।
গমনাগমন
কেউ ঘুরে যাচ্ছে শ্মশানের দিকে
কেউ ঘুরে যাচ্ছে গোরস্থানের দিকে
ফসলের ক্ষেতে সবুজ আগাছা
ক্লান্তিহীন কৃষকের নিড়ানি
শব্দের ভেতর মড়া-পোড়ার ছাই
বাক্যের ভেতর কাফনে কাপড়
ছাই যাচ্ছে শ্মশানের দিকে
কাফন যাচ্ছে গোরস্থানের দিকে
সব যায়, যেতে পারে
মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই
