রূপক চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
টহলদার
শীত টহল দিচ্ছে।
আধবুড়ো স্ট্রিট লাইট কুয়াশার ভেতর নাগর কানাই
খাদ্য জালে ডেকে আনছে শ্যামা পোকাদের দল!
এতো মলিন হলো মেধা ও বিছানা
তবুও জোনাকি সম্ভবা রাত্রি
এসো চুম্বনের আগে হৈমবতী হও!
ধানের গন্ধ খুঁজে খুঁজে কবেই মাঠের লালন
চলে গেছে তাঁবু ফেলে। গান পড়ে আছে হিমাঙ্ক ছুঁয়ে।
বুকে নিয়ে একটা নির্জন
রেল স্টেশন বসে আছি, প্রহরী চলে গেলে
একটা বাসন্তীরঙ ট্রেন আসবে বলে গ্যাছে কেউ!
কৃষিতে এসো
সব গাছ কেটে নিয়ে গ্যাছে,
সব ট্রাকে গাছেদের লাশ।
সব গাছে আমাদের বাসা
সব ফলে তোমার জরায়ু!
আর সব বেঁচে থাকা অপার
ছ’তলায় মেঘ হয়ে ওঠে।
বহু নীচে পৃথিবী প্রবাহ
তারও নীচে অগ্নি জল থাকে।
কাটাকুটি খেলার উপমায়
মুন্ড থেকে রক্ত দাগ মোছা।
কাঁটাতারে নখর জাগায়ে
কত সুখে আছি হে পাতক!
পাতালে প্রবেশ করি তবে
সব গাছে আমাদের পিতা।
আদিম টাঙিয়ে দিও চাঁদে
কয়লা জন্মে এসো হে অঙ্গারে!
আজ তবে এক করে দাও
তুমি আমি অঙ্গুরী মাল
কৃষি পদে সাজাবো জমিন
শেষ পৃষ্ঠা ধনধান্য আহার..
অধর্মিক
আহা ধর্মশাসিত হাড়ে কোনোদিন ঘাস গজালে
পৃথিবীর সব নদী, প্রাণের কাছাকাছি স্পন্দনে
ছড়িয়ে দেব জলতরঙ্গ!
সূর্যোদয় হবে স্টিলের ছুরির মতো মেঘের ওপরে,
প্রজাপতি উড়বে হলুদ মেয়ের মাথায়।
দুপুরের জনবিরল ট্রাম লাইন ধরে
বসন্ত বাগানে ঢুকে, ঢুঁ মেরে শুনতে যাবে
বসন্তবৌরি কথা, নীল ঝোরার গান
চড়ুই খুনসুটি…
আহা যদি কোনোদিন
ধর্মশাসিত হাড়ে আগুন নিভে যায়
তবে তোকে জলনুপুর কিনে দেবো,
অজপাড়াগাঁয়ে মেলায়! হাতে দেবো
সঞ্চিত সব অচল পয়সা আমার।
তুই হেসে ওঠার আছিলায় তদের এক একটি
নক্ষত্র করে দিস দখিন আকাশে..
উৎসের দিকে
লাশ বহনযোগ্য একটাও দিন পেলাম না!
তাই নিজের লাশ টেনে টেনে
ঝোড়ো ঘড়ির মুখে ছেড়ে দিয়ে এলাম।
তার তীরন্দাজ কাঁটায় বিদ্ধ সময় গুলি
লাশের গায়ে বিছিয়ে দিয়ে বললাম
সব লৌকিক শ্রম শেষ হলে
নদীতে গা ধুয়ে ফিরে আসবো
ততক্ষণ অভুক্ত থাকে।
ততক্ষণ চন্দ্রকলায় দাঁত কামড়ে পড়ে থাকো
রাতের অছিলায়। ক্রমে ভোর হবে…
সভ্যতার সরীসৃপ খোলস ছেড়ে
স্তন্যপায়ী পায়ে উঠে দাঁড়াবে,
আমরাও তখন পাথুরে পাহাড়কে মাতৃস্তন ভেবে
খুঁড়ে যাবো উদ্গমস্থল!
বৃত্ত
সময়ের ঝোড়ো আঙুল গুলি থেমে এলে
গাঁয়ের উচ্ছন্নে যাওয় একটা সন্ধ্যা
তোমাকে উপহার দেবো।
শান্তির প্রস্তাব যেখানে গন্ধরাজ লেবুগাছের নীচে
হাজারটা কুঁড়ি হয়ে শুয়ে থাকে। আলোর তরলে
হাভাতের সংসার ভেসে ভেসে পার করে দ্রোহ কাল!
আরো একটি জীবন না হয়
আদিমে ফিরে যাবে, পাথরে পাথরে ঠুকে
জ্বালাবে কোজাগরী। তাও ভালো
যদি সময়ের ঝোড়ো পূর্বাভাস দিতে আসা পাখি
আর যদিনা ফিরে যায় নাগরিক ইস্পাতের কাঁধে
নিঝুম ঘেঁটু ফুলের গভীরে শুয়ে পড়ে
আমাদের অচেনা শোক। সসাগরা আহ্লাদী
সময় আঙুল গুলি ঘড়ির কাঁটায় যত ঘুরে মরে
আমি তোমার কাছে ততই জীবন গ্রস্ত হয়ে পড়ে
